হাদি হত্যার খুনিদের দ্রুত ফেরাতে তোড়জোড়; ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফরে বড় সাফল্য
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের নিখুঁত তথ্যে বনগাঁয় গ্রেফতার ফয়সাল-আলমগীর; বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযানের নিশ্চয়তা
হাদি হত্যার আসামিদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু
ডিজিএফআই প্রধানের চাপে ভারতজুড়ে বাংলাদেশবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের আশ্বাস
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তাঁর সহযোগী আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে তাঁদের গ্রেফতারের পর এই প্রক্রিয়া গতিশীল হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের (ডিজিএফআই) দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে।
🕵️ গ্রেফতার ও হস্তান্তরের নেপথ্যে:
- 📍 ডিজিএফআই প্রধানের সফর: সম্প্রতি ডিজিএফআই-এর নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফরকালে হাদি হত্যার আসামিসহ সকল পলাতক সন্ত্রাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন।
- 📍 সাঁড়াশি অভিযান: বাংলাদেশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেদেশে বসে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালানো চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযানের নিশ্চয়তা দিয়েছে।
- 📍 সফল অভিযান: কলকাতা পুলিশের এসটিএফ এই গ্রেফতারকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে, কারণ এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছিল।
- 📍 স্বীকারোক্তি: ইতিপূর্বে রিমান্ডে নেওয়া ছয় আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যার ফলে ফয়সাল ও আলমগীরের ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান ঘাতকরা ভারতে পালিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন।
আইনি প্রক্রিয়া: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে দুই আসামিকে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভারতের বনগাঁ আদালতে তাঁদের ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাঁদের ভারতে আশ্রয়দাতাদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।