হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে দেশ; শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরও ৫ দিন
৪৪ জেলায় বইছে কনকনে হাওয়া; নওগাঁয় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি
তীব্র শীত আর কনকনে হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের ৪৪টি জেলায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহ আগামী রবিবার (১১ জানুয়ারি) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আজ বুধবার সকালে আগামী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ও কুয়াশার দাপট:
আজ বুধবার সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁয় ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
যেসব এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে: টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা জেলাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলা, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা এবং বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
সিনপটিক অবস্থা: দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এছাড়া উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে, যার ফলে হিমেল হাওয়ার দাপট বাড়ছে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী পাঁচ দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত তীব্র শীতের এই অনুভূতি বজায় থাকবে। ঘন কুয়াশার কারণে নৌ ও সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বা ধীরগতি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।