বিএনপি

শেখ হাসিনার সন্তানদের ফেরার সুযোগ ও জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে মুখ খুললেন বিএনপি চেয়ারম্যান

‘জনগণ চাইলে যে কেউ রাজনীতি করতে পারে’; রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের বড় বার্তা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খোলামেলা কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার সন্তানদের (সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল) রাজনীতিতে ফেরার অধিকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান উদার গণতান্ত্রিক অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “যদি জনগণ কাউকে মেনে নেয়, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার সুযোগ আছে।” তাঁর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গণতান্ত্রিক সহনশীলতার এক অনন্য বার্তা হিসেবে দেখছেন।

জামায়াতের সাথে ‘ঐক্য সরকার’ প্রস্তাব নাকচ:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিএনপিকে ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে বিএনপি নিজেই পর্যাপ্ত আসনে জিতবে। আর আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে কীভাবে আমি ঐক্য সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও যোগ করেন যে, জামায়াত যদি পর্যাপ্ত আসন পেয়ে বিরোধী দলে থাকে, তবে তিনি তাদের ‘ভালো বিরোধী দল’ হিসেবে দেখতে চান।

পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বই তাঁর কাছে প্রধান। তিনি বলেন, “আমাদের তরুণদের চাকরি দিতে হবে, ব্যবসা আনতে হবে। তাই যাদের প্রস্তাব আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত হবে, আমরা তাদের সবার সঙ্গেই বন্ধুত্ব করব—আলাদা কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি পক্ষপাত নয়।”

উল্লেখ্য, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইতিমধ্যে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় বিএনপি এখন ক্ষমতা আসার দৌঁড়ে এককভাবে এগিয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের এই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে।

Author

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত সংবাদ

Back to top button
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker