হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড যুবলীগ নেতা বাপ্পী কলকাতায়; থাকছেন ‘পুলিশ’ পরিচয়ে!
১৭ জনের বিরুদ্ধে ডিবির চার্জশিট দাখিল; রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নাম উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই হাদিকে হত্যার নীল নকশা সাজানো হয়েছিল। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয়েই যুবলীগ নেতা বাপ্পীর নির্দেশে হাদিকে গুলি করা হয়।
কলকাতায় বাপ্পীর ছদ্মবেশ:
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী তাজুল ইসলাম বাপ্পী বর্তমানে ভারতের কলকাতায় আত্মগোপনে আছেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘পুলিশ’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজারহাটের ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি, মেঠোপাড়া এলাকার ঝনঝন গলির একটি বাড়িতে থাকছেন। গত তিন মাস ধরে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হত্যার নেপথ্য কারণ: ডিবি জানিয়েছে, ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিগত দিনের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনামূলক পোস্টের কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। হাদিকে সরাসরি গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিজেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ডিবি প্রধান আরও জানান, বাপ্পী ছাড়াও আর কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে। বর্তমানে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহায়তা ও আইনি প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এই চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথে বড় এক ধাপ অগ্রগতি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।