হাদি হত্যা: শুটার ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাবের ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত
অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের প্রমাণ পেল সিআইডি; আদালতের নজিরবিহীন নির্দেশ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের অবৈধ অর্থের সাম্রাজ্যে বড় আঘাত হেনেছে সিআইডি ও আদালত। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ ফয়সালের নামীয় ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫৩টি ব্যাংক হিসাবের সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) ও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, সিআইডির উপপরিদর্শক আব্দুল লতিফের আবেদনের প্রেক্ষিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এই আদেশ দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফয়সাল ও তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে, যার সাথে খুন, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাস কার্যে অর্থ জোগানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
তদন্তে সিআইডির পর্যবেক্ষণ:
সিআইডির আবেদনে বলা হয়, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবসমূহ বিশ্লেষণে অপরাধলব্ধ অর্থের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই এই অর্থ বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ১৪ ও ১৭(২) ধারা মোতাবেক এসব অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা একান্ত প্রয়োজন।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট: গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি পরবর্তীতে সরাসরি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
আইনজীবীরা মনে করছেন, এই আদেশের ফলে হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা অর্থ জোগান দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করা সহজ হবে। প্রধান আসামি ফয়সাল বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাঁর আর্থিক উৎসগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় তদন্তে বড় অগ্রগতি আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।