নওগাঁ

নওগাঁয় পুলিশের লাথির আঘাতে বৃদ্ধের মৃত্যু অভিযোগ, পুলিশের দাবি ‘হৃদরোগে মৃত্যু’

মহাদেবপুরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে লঙ্কাকাণ্ড; এলাকায় উত্তেজনা

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে পুলিশের লাথির আঘাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, ওই বৃদ্ধ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ব্যক্তি হলেন উপজেলার মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬)। তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এমরান হোসেনের বাবা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান ও এএসআই আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে এমরান হোসেনকে আটক করতে তার বাড়িতে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান পালিয়ে যান বলে জানা যায়। পরে তাকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের নাতি রিপন জানান, তিনি ও তার দাদা একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে কয়েকজন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যান। পরে উঠতে গিয়ে আবার পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের বাড়ির দরজা ভাঙচুর করেছে। আব্দুল হামিদের ৮৫ বছর বয়সী মা হালিমা বেওয়া জানান, ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আব্দুল হামিদ একজন সহজ-সরল মানুষ ছিলেন এবং তার নামে কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না। ছেলে এমরানকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পুলিশ তাকে লাথি মারে এবং সেখানেই তিনি মারা যান বলে তারা দাবি করেন।

এদিকে মালাহার গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম জানান, একই রাতে পুলিশ তার বাড়িতেও গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। তবে আইডি কার্ডে নামের বানান মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় মালাহার পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক জহুরুল ইসলাম এবং আফাজ মাস্টারের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাতুন মাস্টার পুলিশের সঙ্গে ছিলেন এবং তাদের ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জহুরুল ইসলাম ও সিরাতুন বলেন, ঘটনার সময় তারা পুলিশের সঙ্গে ছিলেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে গিয়েছিল। তবে নামের মিল না থাকায় এসলাম নামের একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য আসামি এমরান হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে না পেয়ে অন্য আসামির বাড়ি দেখানোর জন্য আব্দুল হামিদকে ডাকা হয়েছিল। এ সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পুলিশ তাকে কোনো আঘাত করেনি।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

“আমার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পা ধরেছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। চোখের সামনে আমার ছেলেকে (হামিদকে) মেরে ফেলল।” — হালিমা বেওয়া (৮৫), নিহতের মা।

Author

মো: খালেদ বিন ফিরোজ, নওগাঁ প্রতিনিধি

পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি ৩০ মে থেকে মিশন ৯০ নিউজে নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত সংবাদ

Back to top button
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker