প্রতিশ্রুতি নয়, জনভোগান্তি নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ চান ভোটাররা
মুখরোচক প্রতিশ্রুতি বনাম চার লেনের দাবি
নওগাঁ শহরের বড় সমস্যা যানজট। শহরটির বাসিন্দাদের দিনের একটা বড় সময় কাটে যানজটে। এছাড়াও ভাঙাচোরা রাস্তা, নর্দমাব্যবস্থা (ড্রেনেজ) বেহাল, জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা আর ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হয় শহরের বাসিন্দাদের। একেবারেই উন্নয়ন বঞ্চিত শহরটি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এসব সমস্যার কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আশ্বাসে আর আস্থা নেই ভোটারদের
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে আবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে ভোটাররা বলেছেন, এসব আশ্বাস নতুন নয়। আগের নির্বাচনগুলোতেও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘ দিনেও সমস্যাগুলোর স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিশ্রুতির ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। ভোটাররা এমন প্রার্থীকেই বেছে নিতে চান যিনি সবার আগে এসব সমস্যার সমাধান করবেন।
আসন ভিত্তিক প্রার্থী ও ভোটার তথ্য
নওগাঁ-৫ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ৫ জন। তাঁরা হলেন— বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু, জামায়াতের আ স ম সায়েম, সিপিবির শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান ও জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৩১ জন।
কী বলছেন ভুক্তভোগী ভোটাররা?
রবিউল ইসলাম: “নওগাঁর সড়ক অপ্রশস্ত। ১০ মিনিটের পথ যেতে ৪০ মিনিটের বেশি সময় লাগে। মাঝেমধ্যে মনে হয় সড়কের শৃঙ্খলা পুরো ভেঙে পড়েছে।”
সাইদুল ইসলাম: “প্রতিবার ভোটের সময় নেতারা আসেন, ভোট চান। এরপর আর কোনো খোঁজ থাকে না তাঁদের। আমরা এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।”
রইচ উদ্দিন: “আমি অনেক নির্বাচন দেখেছি। প্রধান সড়কটি চার লেনে উন্নীত হওয়ার কথা থাকলেও তা কেবল আশ্বাসে ঝুলে আছে। আমরা এমন কাউকে চাই, যিনি কথা কম বলবেন, কাজ বেশি করবেন।”
শাহ আলম: “ভোটের আগে দেওয়া কথা নির্বাচিত হওয়ার পর কেউই রাখে না। যেই আসুক তাকে মনে রাখতে হবে জনগণের ভালো করতে হবে।”
বর্তমানে প্রার্থীরা ঘরোয়া বৈঠক ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে নির্বাচনী আমেজ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।