ফরহাদ ইকবাল ও লুৎফর রহমান আজাদসহ ৩ নেতা বহিষ্কার
দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ভোটের মাঠে নামায় চূড়ান্ত ব্যবস্থা; সকল পদ হারালেন হেভিওয়েট নেতারা
দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালসহ তিন শীর্ষ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বহিষ্কৃত অন্য দুই নেতা হলেন—বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান আজাদ এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকায় তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের নেপথ্য কারণ:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- ফরহাদ ইকবাল: টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন।
- লুৎফর রহমান আজাদ: টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন।
- মোহাম্মদ আলী: টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
টাঙ্গাইল বিএনপিতে প্রতিক্রিয়া: ২০২২ সালের নভেম্বরে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর ফরহাদ ইকবালের বহিষ্কার স্থানীয় বিএনপিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে যে কমিটি গঠিত হয়েছিল, তার সাধারণ সম্পাদকই এখন দলচ্যুত। এই বহিষ্কারের ফলে টাঙ্গাইলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপির কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন, তাঁদের সকলকেই পর্যায়ক্রমে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এখন দেখার বিষয়, বহিষ্কৃত এই নেতারা ভোটের লড়াইয়ে কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারেন।