হোসেনপুরের চ্যাপা শুঁটকি এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত; গরিবের খাবার এখন ধনীদের শৌখিন আহার
দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসীদের পাতেও হোসেনপুরের ঐতিহ্যবাহী চ্যাপা শুঁটকি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মুখরোচক চ্যাপা শুঁটকি এখন দেশ-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একসময় যা ছিল গরিবের খাবার, আজ তা পরিণত হয়েছে সৌখিন ভোজনরসিক ও প্রবাসীদের স্বপ্নের খাবারে। বিশেষ করে দূরে অবস্থানরত স্থানীয়রা ছুটি শেষে নিজ নিজ কর্মস্থল, বাসাবাড়ি এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন এই ঐতিহ্যবাহী চ্যাপা শুঁটকি।
অধিক বিক্রি হওয়ায় খুশি বিক্রেতারাও। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস বা অন্যান্য সুস্বাদু খাবার থাকলেও চ্যাপা শুঁটকির স্বাদ যেন সবার কাছেই আলাদা। তাই দিন দিন এ শুঁটকির কদর বেড়েই চলেছে। একসময় গরিবের খাবার হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে প্রবাসী ও বিত্তবানরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন হোসেনপুরের চ্যাপা শুঁটকির স্বাদ নেওয়ার জন্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশীয় পুঁটি মাছ দিয়ে তৈরি করা হয় এই চ্যাপা শুঁটকি। যুগ যুগ ধরে বাঙালির রসনাবিলাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার নগর আড়াইবাড়িয়া ও নতুন বাজারের চ্যাপা শুঁটকির বৈশিষ্ট্য অনেকটাই আলাদা। এখানকার চ্যাপা শুঁটকির নাম শুনলেই যে কারও জিভে জল চলে আসে। ফলে কিশোরগঞ্জসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবারে পরিণত হয়েছে। অথচ একসময় এই চ্যাপা শুঁটকি শুধুমাত্র গরিবের খাবার হিসেবেই পরিচিত ছিল।
বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে শুধু হোসেনপুরেই নয়, সারা দেশেই এই চ্যাপা শুঁটকির চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও প্রবাসীরা ছুটিতে বাড়ি এসে সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন এই ঐতিহ্যবাহী খাবার।
চ্যাপা শুঁটকি তৈরির স্থানীয় কারিগর সেলিম মিয়া জানান, হোসেনপুরের চ্যাপা শুঁটকির প্রধান উপকরণ হলো দেশীয় পুঁটি মাছ। এই মাছ সংগ্রহ করা হয় কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলা থেকে।
হোসেনপুর বাজারের চ্যাপা শুঁটকি বিক্রেতা খোকন মিয়া জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি চ্যাপা শুঁটকি ৭০০ থেকে ১,৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পুঁটি মাছের দাম বৃদ্ধি ও চাহিদা বেশি থাকায় নতুন চালান এলে দাম আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
সূত্রমতে জানা যায়, পুঁটি মাছ প্রথমে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে মাটির বড় বড় মটকায় ভরে জাগ দিয়ে চার থেকে পাঁচ মাস সংরক্ষণ করা হয়। এর আগে চ্যাপা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় পুঁটি মাছের তেল। পুঁটি মাছের পেট কেটে বের করা নাড়িভুঁড়ি আগুনে তাপ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে এই তেল তৈরি করা হয়। পরে প্রস্তুত চ্যাপা শুঁটকি বিভিন্ন হাট-বাজারে পাইকারি ও খুচরা দরে বিক্রি করা হয়।
হোসেনপুর বাজারের বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী চ্যাপা শুঁটকির দোকানের ব্যবসায়ী তারেক মিয়া জানান, এখন দেশ ছাড়াও বিদেশে অর্ডারের মাধ্যমে এখানকার চ্যাপা শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে।