জাতীয়

মুক্তযোদ্ধার পিঠের চামড়া তুলতে চাওয়া সেই আযম খান এখন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী

অডিও বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন এই বিএনপি নেতা

মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি দেওয়ার অডিও বিতর্কে আলোচিত বিএনপি নেতা ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখিপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট আহমেদ আযম খান এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখিপুর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খানকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে সংক্ষিপ্ত বিরতির সময় বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করান।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে এডভোকেট আহমেদ আযম খান ও টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেক মণ্ডলের মধ্যে ৩ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সেখানে আহমেদ আযম খানকে খালেক মণ্ডলকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে আহমেদ আযম খানকে বলতে শোনা যায়, “আপনি আমার নির্বাচনী এলাকায় কমিটি করবেন আর আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না? আপনার বাড়ি কোথায়? আপনার সিএস আরএস কী? আপনি আমার নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত করবেন, এটা করতে দেওয়া হবে না। খামোশ। আপনার পিঠের চামড়া থাকবে না। কীভাবে আপনি বাসাইল আসেন, দেখব। ফাজিলের বাচ্চা।”

অডিওতে আরও শোনা যায়, তিনি বলেন, “আপনি কি একা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন? আর কেউ করে নাই? ফাইজলামি পাইছেন। মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট পকেটে নিয়ে আইসেন, আমি দেখব। আপনি মুক্তিযোদ্ধার সভাপতি হয়ে দুর্নীতি করছেন। টাকার লোভে পাইছেন। আপনাকে খাইয়ে দেব, একেবারে খাইয়ে দেব।”

অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সে সময় আহমেদ আযম খানের বিচারের দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেক মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, “আহমেদ আযম খান আমাকে ফোন করে গালাগাল করেছেন এবং পিঠের চামড়া থাকবে না বলে হুমকি দিয়েছেন। তিনি আমার সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছেন, তার হুবহু রেকর্ডের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।”

তবে ভাইরাল হওয়া অডিওটির সত্যতা অস্বীকার করে এডভোকেট আহমেদ আযম খান সে সময় দাবি করেন, “আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি, তবে কোনো হুমকি দিইনি। অডিওতে এআই ব্যবহার করে অন্য রকম করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে অডিওটি ভাইরাল করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সখীপুর–বাসাইল তার নির্বাচনী এলাকা। খালেক মণ্ডল তার সঙ্গে আলোচনা না করেই ব্যক্তিগত লোকজন দিয়ে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করেছেন এবং তারা তার নির্বাচনের বিরোধিতা করছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে অডিও সম্পাদনা করে তার ইমেজ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক খালেক মণ্ডল বলেন, ভাইরাল হওয়া অডিওটি স্পষ্ট এবং এতে কোনো এআই ব্যবহার করা হয়নি। তিনি এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড থেকে তাকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়ে ছিলেন তিনি।

এদিকে, এমন বিতর্কের মধ্যেই এডভোকেট আহমেদ আযম খানকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

“যিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দিতে পারেন, তাঁকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমানজনক।” — ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধা সমাজ, টাঙ্গাইল।
তথ্যসূত্র: ভাইরাল অডিও রেকর্ড ও সংসদীয় সচিবালয়।

Author

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত সংবাদ

Back to top button
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker