৪১ ভাগ মানুষকে বাদ দিয়ে নির্বাচন কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না: লতিফ সিদ্দিকী
হাঁস মার্কার জনসভায় কাদের সিদ্দিকীর উপস্থিতি; প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি
সাবেক মন্ত্রী ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, দেশের একটি বড় অংশের মানুষকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনই জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৪১ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল। সেই জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের চিন্তা অবাস্তব।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কালিহাতী উপজেলার কস্তুরিপাড়া বাজারে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘হাঁস’ মার্কার সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন ও গণতন্ত্র প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্যে আছি। পুলিশের পিটুনি খেয়েছি, বিভিন্ন সময় লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি। একাত্তরে আমরা লড়াই করেছি গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য। আজ যদি আবার সেই প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হয়, তবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায় কার—সেটি নতুন করে ভাবতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনাও বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলসহ দেশের একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করেছিলেন, যা গ্রহণযোগ্য হয়নি। এবারও যদি একই কৌশল নেওয়া হয় এবং ৪১ শতাংশ মানুষকে বাইরে রাখা হয়, তবে সে নির্বাচনও সফল হবে না।”
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লতিফ সিদ্দিকীর ছোট ভাই ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। এ সময় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রথমে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন দিয়েছেন, পরে তাঁর দলও সমর্থন দিয়েছে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
নির্বাচনী মাঠে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “অনেকে হুমকি দিচ্ছে ভোট দিতে দেওয়া হবে না, পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হবে। আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছি, কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না। গত ১৭–১৮ মাসে যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই, তাদের গায়ে কেউ হাত দিলে আমি নির্বাচন বর্জন করব।”
তিনি বলেন, “৬০-এর দশক থেকে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছি। ইনশাআল্লাহ, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাব।”
জনসভায় স্থানীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও লতিফ সিদ্দিকীর অনুসারী বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।
