ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি: ৯৪৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ সরকারের
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জরুরি সংস্কার; স্বচ্ছতা নিশ্চিতে জেলা-উপজেলায় কমিটি গঠন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৯৪৭টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৬ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, নির্বাচনের সময় ভোটার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠানের দরজা-জানালা, লাইট-ফ্যান, বাথরুমের স্যানিটারি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও পুনর্বাসন’ খাত থেকে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
বরাদ্দ ও ব্যয়ের সীমা:
তালিকাভুক্ত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পাবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ইতিমধ্যে ব্যয় মঞ্জুরির আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইনান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: সংস্কার কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
- জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়: সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইইডি-র নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সদস্যসচিব থাকবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান।
- উপজেলা পর্যায়: সভাপতি হিসেবে থাকবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্যসচিব থাকবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান।
কঠোর শর্তাবলি: বরাদ্দ আদেশে ৬টি বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথাও অর্থ ব্যয় করা যাবে না, সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও পিপিআর-২০২৫ কঠোরভাবে মানতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া পরিশোধ করা যাবে না। অব্যয়িত অর্থ অবশ্যই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই জরুরি সংস্কার কার্যক্রমের ফলে দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতির কাজ এখন আরও গতিশীল হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ভৌত অবকাঠামোর এই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।