শেষ বিদায়: মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার মরদেহ; জানাজায় মানুষের ঢল
জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিনে ‘দেশনেত্রী’; দাফন করা হবে রাষ্ট্রপতি জিয়ার কবরের পাশেই
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ০৪ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে তাঁর মরদেহবাহী গাড়িবহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
গাড়িবহরে উপস্থিত রয়েছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা। এর আগে সকাল ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ ফিরোজায় আনা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজন ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও জানাজার প্রস্তুতি:
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা সম্পন্ন করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জানাজাস্থলে ইতিমধ্যেই লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। জানাজা শেষে তাঁকে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
রাষ্ট্রীয় শোক ও শ্রদ্ধা: বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে কালো ব্যাজ ধারণ করে তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এই আপসহীন জননেত্রী। তাঁর মহাপ্রয়াণে দেশের ইতিহাসে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদর্শনের পর তাঁকে চন্দ্রিমা উদ্যানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।