সুনামগঞ্জ

১৯ ইউনিয়নে আ’লীগের ৪১ বিদ্রোহী প্রার্থী

সুনামগঞ্জে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি।

জেলার বিশ্বম্ভরপুর, জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার ২১ টি ইউনিয়নের ১৯ টিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। একাধিক ইউনিয়নে বিদ্রোহী হিসেবে ৩ থেকে ৪ জন করে দলীয় নেতা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে ১৯ ইউনিয়নে ৪১ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর এসব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, দলীয় নেতা প্রবোধ চন্দ্র রায় ও জিয়াউল হক তুহিন। একইভাবে পলাশ ইউনিয়নে সুহেল আহমদ। সলুকাবাদ ইউনিয়নে মো. মহরম আলী।ধনপুর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও মিলন মিয়া।

দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান রেজোয়ান হোসেন খান ও দলের নেতা জাহাঙ্গীর চৌধুরী। ভাটিপাড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান কাজী, বদরুল ইসলাম চৌধুরী মিফতা, রুহুল আমিন তালুকদার ও বিজিত চন্দ্র দাস ৷ রাজানগর ইউনিয়নে জহিরুল ইসলাম, আমিন মিয়া, রানা মিয়া ও নওশেরান চৌধুরী। চরনারচর ইউনিয়নে পরিতোষ রায় ও পরেশ লাল রায়। সরমঙ্গল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এহসান চৌধুরী, কানু লাল দাস, সেলিম মিয়া, আবুল বাশার ও তপন দাস। করিমপুর ইউনিয়নে সিজিল মিয়া, জগদল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শিবলি আহমেদ বেগ। তাড়ল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ ও আকিকুর রেজা, কুলঞ্জ ইউনিয়নে পবিত্র মোহন দাস ও চান মিয়া চৌধুরী।

জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি ইউনিয়নে বিদ্রোহীরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল হক ও আব্দুল আহাদ আজাদ। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আরশ মিয়া, শহীদুল ইসলাম বকুল ও আব্দুল মুমিন। রানীগঞ্জ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম রানা। সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নে মকছুদ কুরেশি, আজাহার কামালি ও তানভির কামালি। আশারকান্দি ইউনিয়নে আয়ুব খান, শেখ জমিরুল হক ও আবু বখর খান।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন (৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। দলে যাদের পদ আছে তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় দলের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ দল থেকে বহিস্কার করা হবে। দলের পদে থেকে দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে দলে পদ নেই, দলীয় ঘরানার বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেকে প্রার্থী হয়ে নৌকার ক্ষতি করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জের ১৭ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীতদের চরম ভরাডুবি হয়েছে। দলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে কেবল শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দুইজন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান সকল প্রার্থীরাই পরাজিত হয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker