ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে চোখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে একটি পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা ও বাড়িঘর ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় ২ অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশুসহ ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতদের ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের তারাইল ঈশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে ভুক্তভোগী ভাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও ঘটনায় ভুক্তভোগী সূত্রে প্রকাশ, তারাইল ঈশ্বরদী গ্রামের হবি শেখের সঙ্গে একই গ্রামের দেলোয়ার চৌধুরীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছিল। গত শুক্রবার বিকেলে দেলোয়ার ও তার সহযোগী রাকিব মোড়ল হবি শেখের ওপর হামলা চালায়। ওইদিন রাতেই হবি শেখ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার (২৫ আগস্ট) রাতে আবারও প্রতিপক্ষ দেলোয়ার চৌধুরী, রাকিব মোড়লসহ তার লোকজন হবি শেখের পরিবারের ওপর মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে।
হামলায় আহতরা হলো- হবি শেখ (৬০) তার স্ত্রী হাফিজা বেগম (৫০), অন্তঃসত্ত্বা দুই মেয়ে সুইটি আক্তার (২৪) ও সাথী আক্তার (২৬), সদ্য সন্তান প্রসব করা আরেক মেয়ে ময়না বেগম (২২) ও নাতিন ছামিরা আক্তার (৬)। আহতরা ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হবি শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ারের ভাড়াটে সন্ত্রাসী উপজেলার গোয়ালদী গ্রামের রাকিব মোড়ল ও সহযোগী ৭-৮ জন সংঘবদ্ধ হয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘরে ঢুকে মরিচের গুঁড়া চোখে ছিটিয়ে দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও হামলা চালিয়ে আহত করে এবং ঘর দরজা ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
ভাঙ্গা থানার এসআই রাকিবুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় একটা অভিযোগ পেয়েছি। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছি। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।